Onushondhan News
মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরের ফেসবুক থেকে ছবিটি নেয়া

যুবলীগ কার্যালয়ে অবাঞ্চিত ‘আনিস সিন্ডিকেটের’ অন্যতম হোতা মনির

মুনিরুল তারেকঃ

আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপোসহীনতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন নিজ ঘরে চলা দুর্নীতিবাজদের ‘ডানা’ ভেঙে দিয়ে। দুর্নীতিবাজ দমনের তার ওই সাড়াশি কার্যক্রমে দাপুটে অনেক রাঘব বোয়ালের অন্তরালের পরিচয় বেড়িয়ে আসে জনসম্মুখে।

যুবলীগের পূর্বেকার কমিটিতে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন কাজী আনিসুর রহমান। যুবলীগ কার্যালয়ের পিয়ন থেকে দপ্তর সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার প্রক্রিয়া এবং পদ-পদবি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎসহ দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্তারিত তথ্য গত বছর পদ থেকে তাকে বহিস্কারের সময়ই গণমাধ্যমে চলে আসে।

সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের সঙ্গে তোলা সেলফি। মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরের ফেসবুক থেকে ছবিটি নেয়া

দুর্নীতির বরপুত্র কাজী আনিস পদে নেই, তবে একেবারে নীরবও নেই তার সহযোগী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বলা হচ্ছে মোঃ মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরকে। যুবলীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, ‘গুরু’ কাজী আনিসের ‘যোগ্য শিষ্য’ হিসেবে নিজের নামটি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন মনির। যার কর্মফল স্বরূপ সর্বশেষ খবর অনুযায়ী অবাঞ্চিত হয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, কাজী আনিসের ‘লোক’ হিসেবে পরিচিত মনিরুল ইসলাম হাওলাদারসহ তার কয়েকজন সহযোগীকে কার্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আনিসের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত সবাই একই পথের পথিক। সুতরাং, যুবলীগকে আর কলংকিত হতে দেওয়া হবে না। আনিসের অনুসারী মনিরুল ইসলাম হাওলাদারসহ ওই গ্রুপের কাউকে কার্যালয়ে প্রবেশ তো দূরের কথা, আশপাশে যেতেও নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরকে কার্যালয়ে প্রবেশ নিষেধ করায় যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্ট

সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ’র সঙ্গে পরামর্শ করেই এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে যুবলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অনেকেই ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্নীতিবাজ ‘আনিস সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে এমন ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানোয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

কোনো এক ইফতার পার্টিতে সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি। মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরের ফেসবুক থেকে ছবিটি নেয়া

এ প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনির অনুসন্ধান নিউজকে বলেছেন, ‘অবাঞ্চিত করার বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাকে কেউ কার্যালয়ে যেতে নিষেধ করেনি বা কোনো অফিসিয়াল চিঠিও পাইনি’।

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতি করতে গেলে সাবেক দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যেটুকু সম্পর্ক রাখা দরকার ছিলো, সেটুকু রেখেছি। তবে আমি তার অনুসারী, এ কথা ঠিক নয়। আমি সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ভাইরেয় রাজনীতি করেছি। তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর দপ্তরের প্রেস রিলিজ করাসহ কিছু কাজ আমি সফলভাবে চালিয়ে নিয়েছি। তাই আগামী পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমার দপ্তর সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় অন্য পদ প্রত্যাশিরা আমার নামে মিথ্যা কথা ছড়াতে পারে’।

পাঠকের জন্যঃ

মনির হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিপুল অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সারাদেশে যুবলীগের কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অসংখ্য নেতা-কর্মীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে পুলিশে নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ; সবশেষ কতিপয় অসাধু লোকদের নিয়ে স্বদেশ কর্পোরেশন নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ।

এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং ছবি রয়েছে অনুসন্ধান নিউজ’র কাছে, যা গোপন সূত্র সরবরাহ করেছে।

এছাড়াও, কোনো পদে না থেকে নিজেকে উপ-দপ্তর সম্পাদক পরিচয় দেওয়া; বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের নাম ভাঙিয়ে তদবির বাণিজ্য এবং জমি দখল করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়; ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী যুবলীগের কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ; যুবলীগের সম্মেলনের খরচ বাবদ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়; সম্মেলনের আগে সিভি জমা নেওয়ার সময় এবং বিভিন্ন লোককে সাব-কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে টাকা আদায়; ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনকালে বিভিন্ন কমিটিতে লোক অন্তর্ভুক্ত করে টাকা আদায়; যুবলীগ কার্যালয়ে ফার্ণিচার কেনার কথা বলে অর্থ আদায় করে আত্মসাত করার অভিযোগ বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে শোনা যায়।

ওই নেতা-কর্মীরা আরো দাবি করেন, এসব দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৬ তলা ভবনসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়, গ্রামের বাড়িতে সম্পত্তি গড়া, পরিবহণ ব্যবসায় বিনিয়োগ, অবৈধ টিভি চ্যানেল করা অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মনিরুল ইসলাম হাওলাদার।

সকল অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে অনুসন্ধান নিউজ’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মনিরুল ইসলাম হাওলাদার তার অবস্থান থেকে প্রত্যেক অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

উত্থাপিত সকল অভিযোগ নিয়ে পৃথক বিস্তারিত সংবাদের আজ প্রকাশ করা হলো মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরের ‘রাজনীতির নামে দুর্নীতি’র প্রথম পর্ব। তার ‘জিরো থেকে হিরো’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো জানতে অনুসন্ধান নিউজ’র সঙ্গেই থাকুন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানেই

তারিখে ক্লিক করে সংবাদ পড়ুন

May 2021
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

আজ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:১৫)
  • ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি
  • ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক-ইউটিউবে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

language change »