Onushondhan News
অনৈতিক অর্থ চেয়ে শিক্ষার্থীদের চাপ দিচ্ছে মাইলস্টোন কলেজ!

অনৈতিক অর্থ দাবি: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পাল্টালো মাইলস্টোন কলেজ

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে টাকা দাবির সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে সম্মুখে শতাধিক শিক্ষার্থী অনৈতিকভাবে দাবি করা টাকা না দেয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করতে যায়। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু করার আগেই ডেকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরেই তাদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা আর আন্দোলন করেনি।

একাধিক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক অনুসন্ধান নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ বিষয় বক্তব্য জানতে মাইলস্টোন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মিজানুর রহমান খানের মুঠোফোনে কল করলে তিনি কল কেটে দেন।

এই সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সকল শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে অনেক আনন্দিত। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা আমাদের সকল দাবি মেনে নিয়েছেন। আমরা আশা করি প্রতিটি দাবি এবং অধিকারগুলো কলেজ সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করবে। শিক্ষা সকলের মৌলিক অধিকার। আমরা চাই না আমাদের এই অধিকারটি বাধাগ্রস্ত হোক। সবশেষে বলতে চাই সকল শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার যেন সব সময় নিশ্চিত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেছেন, এমন একটা বিষয় নিয়ে আন্দোলন করতে হবে এটা আমরা কখনো ভাবিনি। তারপরেও শিক্ষার্থীরা আজ এ বিষয় নিয়ে কলেজে যাওয়ার পর সুন্দর একটি সমাধান পেয়েছে। এ জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরই রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের বিরুদ্ধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করে। এমনকি টাকা আদায় করতে অ্যাডমিট কার্ড আটকে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানায়, মহামারির কারণে মার্চ থেকেই ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের নিজস্ব হোস্টেল বন্ধ। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছে ওই সব ফি বাবদ বড় অংকের অর্থ দাবি করে কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, করোনার সংক্রমণের কারণে গত মার্চে কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা হোস্টেল ছেড়ে বাড়িতে চলে যান। এর কিছু দিন পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনা খরচে জুম ক্লাসের আমন্ত্রণ জানানো হলেও অনেকে সেখানে ক্লাস করেনি। দীর্ঘ সময় পর সরকার শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয় পাশের কথা জানালে মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছে অনৈতিক অর্থ দাবি করেন। কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই প্রতিটি সেকশনের ফর্ম মাস্টারগণ এই অর্থের জন্য শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন।

ওই টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র আটকে রাখার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে তারা বলেছিলেন, কলেজের পক্ষ থেকে আমাদের ফ্রি জুম ক্লাসের কথা বলা হলেও বর্তমানে তারা আমাদের কাছে জুম ক্লাস বাবদ ৩ হাজার টাকা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মার্চ মাসেই হোস্টেল বন্ধ করার পর এখন আমাদের কাছে গত সাত মাসের ফি বাবদ ৩ হাজার করে মোট ২১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। যা না দিলে আমাদের কাগজপত্র আটকে রাখার হুমকি দিচ্ছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছে, টেস্ট পরীক্ষার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন ফি, অগ্রীম জুন মাস পর্যন্ত বেতন, কোচিং ফিসহ বেশ কয়েকটি অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা নিয়েছে। যার কোনো রশিদ তাদের দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই টাকা হাতে হাতে লেনদেন করতে হবে। এতো টাকা নেওয়ার পরেও এখন মহামারির সময় অনৈতিকভাবে ২৪ হাজার টাকা দাবি করা অবিচার।

এমন বেআইনি অর্থ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে তা কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফোন করে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের ফর্ম মাস্টার জুম ক্লাস বাবদ ৩ হাজার এবং হোস্টেল ফি’র কথা বলে ২১ হাজার টাকার দাবি করা হয়। আমাদের সন্তানরা এই অর্থ দিতে অপরাগ হয়ে সবাই মিলে প্রতিবাদ করলে তাদের নানা রকমের হুমকি দিতে থাকে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের দাবি, এই অর্থ না দিলে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বদলে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলো।

এ বিষয়ে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মিজানুর রহমান খান গতকাল বুধবার অনুসন্ধান নিউজকে বলেছিলেন, ‘আমরা অনলাইন ক্লাসের ফি দিতে কাউকে বাধ্য করছিনা। যার যা সামর্থ্য আছে তাকে তাই দিতে বলা হয়েছে। কারোর উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। কেউ না দিতে চাইলে না দিবে।’

জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কলেজ হোস্টেলে থাকার কথা থাকলেও এখন নভেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার করে ২১ হাজার টাকা ফি দাবির বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘হোস্টেলের সঙ্গে কলেজ সরাসরি জড়িত না। তবে হ্যাঁ গত কয়েক মাস হোস্টেল চালু ছিলো, ভবন ভাড়া এবং হোস্টেলের কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা মাসে ৯ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার টাকা দিতে হবে। এটার সঙ্গে কলেজের কোনো সম্পর্ক নেই।’

কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছিলেন, কলেজের নিয়ম অনুসারে প্রতি বছরই জুন পর্যন্ত কলেজ হোস্টেলে শিক্ষার্থীরা থাকে। পরীক্ষা শেষ হলে সবাই যার যার বাড়ি ফিরে যায়। এ বছরও ঠিক তাই হতো। কিন্তু করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা মার্চে বাড়ি চলে যায়। এরপর সরকার এখন অটো প্রমোশনের কথা বললে তারা অহেতুক এই টাকা দাবি করছে, যা আমরা মনে করছি অনৈতিক। এছাড়াও হোস্টেলে থাকা নবম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তারা করোনার সময়েও টাকা নিয়েছেন। তাহলে আমাদের উপর চাপ দিয়ে কেনো টাকা নিয়ে কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে?

উল্লেখ্য, উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের বিরুদ্ধে প্রতি বছরই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টেস্ট পরীক্ষার পর কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ওই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও বলছেন রেজিস্ট্রেশন, বেতন ও কোচিংয়ের নামে প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই অর্থ নিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানেই

তারিখে ক্লিক করে সংবাদ পড়ুন

November 2020
SSMTWTF
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

আজ

  • শুক্রবার (রাত ১১:৪০)
  • ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
  • ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক-ইউটিউবে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

language change »