Onushondhan News

বদলি বাণিজ্য নেশায় পরিণত হয়েছে গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতার

বশির হোসেন খান:

সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচেড়ে বসেছে গণপূর্ত অধিদফতরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহা। বদলি বাণিজ্যই নেশা এই কর্মকর্তার। এখন নিজের চেয়ার ঠেকাতে তোড়জোর শুরু করেছেন তিনি। যে কোনো মুহূর্তে তার বদলি হতে পারে বলে জানা গেছে। তাই কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এই অধিদফতরেই বহাল থাকার জোর চেষ্টা করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদফতরের বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে একাধিকবার বদলি করা হয়। এর মধ্যে দুজন প্রকৌশলীকে ১০ মাসের মধ্যে ছয়বার বদলি করা হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই এরকম বদলির ফলে গণপূর্ত অধিদফতরে প্রকৌশলীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরকম বদলির আদেশের যাবতীয় কাগজপত্র আমাদের হাতে রয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম বাকী ইবনে হাফিজকে ঢাকা গণপূর্ত উপ বিভাগ-৫ থেকে খুলনা গণপূর্ত উপ বিভাগ-৩ এ বদলি করা হয়। এর মাত্র ৭ দিনের মাথায় ১২ জানুয়ারি খুলনা থেকে ঢাকা-৪ বদলি করে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ২ মার্চে আরেক আদেশে ঢাকা-৪ এ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়। গত ৩১ আগস্ট এক আদেশে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ রিজার্ভ থেকে নোয়াখালী গণপূর্ত উপ বিভাগ-১ এ বদলি করা হয়। গত ৫ অক্টোবর নোয়াখালী থেকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ সংযুক্ত করা হয় এবং একই দিন বান্দরবানের লামা গণপূর্ত উপ-বিভাগে বদলি করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ থেকে গোলাম বাকী ইবনে হাফিজ পদোন্নতি পেয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৫ এ পোস্টিং পায়। গোলাম বাকী ইবনে হাফিজের মতো আল আমিন নামে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকেও একইভাবে গত ১০ মাসে ৫/৬ বার বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ওয়াহিদ বিন ফরহাদ, সালেহ উদ্দিন আহমেদ, মো. হেলাল উদ্দিন, কামরুল হাসান, কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ, আল আমিন, মো. নুরুল হাসান, আবু সায়েম খানসহ ১০/১৫ জন প্রকৌশলীকে গত ১০ মাসে একাধিকবার বদলির অভিযোগ উঠেছে।

পূর্তভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমের বদলী বানিজ্যের অংশ হিসেবে তাদের এরকম বদলি করা হয়েছে। তারা বলেন, তার সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) নন্দিতা রাণী সাহা এবং উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুন্ডু মিলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বদলিকৃত প্রকৌশলীদের অধিদফতর থেকে বিভিন্ন কার্যালয়ে বদলি করে অন্য প্রকৌশলীদের এখানে বসিয়েছেন।

গণপূর্ত বিভাগের সংস্থাপন শাখার তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। যা হয়েছে সব উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই হয়েছে। আপনি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

নিয়োগের পর আপনি তো গত ২০ বছর ধরে একটানা ঢাকায় চাকরি করছেন? আপনার তো কোথাও বদলি হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে নন্দিতা রাণী সাহা বলেন, আমার চাকরির বয়স ২০ এর একটু কম হয়েছে। তবে বদলি হয়নি। সেটি ভিন্ন ব্যাপার।

দেশের আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য বালিশসহ ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির ঘটনা, বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের মতো ঠিকদারদের উত্থানের কেন্দ্রস্থল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদফতর। কর্মকর্তাদের অনিয়মে অধিদফতরে বছরজুড়েই থাকছে নানা বিতর্ক।

আজ বুধবার গণপূর্ত অধিদপ্তরের জনসংযোগ প্রচার ও লিয়াজো উইং আহবায়ক মোহাম্মদ পরভেজ খাদেম সাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে বলেন, ১৫ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যামে গণপূর্তে ১০ মাসে ছয়বার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ শীর্ষক খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। দুয়েক অফিসারকে ১০ মাসে ৬বার বদলি করা হয়েছে এবং বদলি বাণিজ্যের অংশ হিসাবে এই রকমটি করা হয়েছে। যা সর্বতই অসত্য। যে কোনো কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনীয়তার কারণে সরকারী নিয়মানুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়ে থাকে। দাপ্তরিক অথবা পারিবারিক বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে মৌখিক বা লিখিতভাবে জানানো হয়। সরকারি নিয়মের আলোকেই এই বদলি করা হয়। এখানে কোনো প্রকার বানিজ্যের প্রশ্নই আসে না। সংবাদে উল্লেখিত অফিসারগণ মৌখিক এবং লিখিতভাবে তাদের নাম জড়িয়ে এই ধরনের সংবাদ পরিবেশনের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংক্ষুদ্ধতা প্রকাশ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রানী সাহা গত ২০ বছর ধরে কোথাও বদলী হয়নি বলে যা লেখা হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি চাকরিতে যোগদানের পর হতে সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে ভিন্ন ভিন্ন দপ্তরে চাকরি করেছেন। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুন্ডু সংস্থাপন শাখায় চাকরি করেন না এবং নিয়োগ বা বদলি সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লেষ নেই। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, মো. আশরাফুল আলম সর্বদাই যে কোনো প্রকার দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর এবং জিরো টলারেন্সে রয়েছেন। সরকারি স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন স্থানের শূন্য পদে পদায়ন করা প্রশাসনিক নিয়মিত অংশ যা চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য অপরিহার্য।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানেই

তারিখে ক্লিক করে সংবাদ পড়ুন

January 2021
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

আজ

  • মঙ্গলবার (সকাল ১১:০০)
  • ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
  • ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক-ইউটিউবে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

language change »