Onushondhan News

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রিয়াজের অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টানবে কে?

মুনিরুল তারেক:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে রিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি-লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের জিম্মি করে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অংকের টাকা। তার স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ কর্মচারীরা কোনো উপায় না পেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীদের গণস্বাক্ষরও রয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও রিয়াজ আহমেদ অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বিপুল পরিমান অর্থ। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে রয়েছে ফ্ল্যাট, জমি, বাড়ি। একাধিক ব্যাংক হিসাবে রয়েছে বড় অংকের নগদ টাকা।

আরো অভিযোগ করা হয়েছে, রিয়াজ আহমেদের নিজস্ব টর্চার সেল রয়েছে। যেসব কর্মচারীরা তার নির্দেশ মত কাজ না করে, সেখানে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া চারিত্রিক দিক থেকেও রিয়াজের বদনাম রয়েছে। একাধিক নারী কেলেংকারীর কাহিনী আছে বলে উল্লেখ আছে অভিযোগপত্রে।

এতে আরো বলা হয়েছে, রিয়াজ আহমেদ সরকারি টাকায় ক্রয় করা ফার্নিচারসহ বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র গায়েব করে ফেলেন।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে- দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন নয়-ছয় করা। এই কর্মচারীদের দৈনিক হাজিরা হচ্ছে ৪৭৫ টাকা। কিন্তু রিয়াজ আহমেদ তাদেরকে দিয়ে থাকেন ৪শ’ টাকা। ৭৫ টাকা নিজের পকেটস্থ করেন। এছাড়া কর্মচারীদের স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলন করলেও তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত ঘুরিয়ে তারপর টাকা দেন। অভিযোগ আছে, এই কয়েক মাসে কর্মচারীদের বেতনের টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকে জমা রেখে তা থেকে আসা মুনাফা আত্মসাত তারপর কর্মচারীদের।

অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, রিয়াজ আহমেদ আনুমানিক ৫০ জন কর্মচারীর সঙ্গে গত তিন বছর ধরে একই আচরণ করে আসছেন। অভিযোগে দেয়া হিসেব অনুযায়ী, এই তিন বছরে ৭৫ টাকা কেটে রেখে তা দিয়েই প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন রিয়াজ আহমেদ। ব্যাংকের মুনাফা তো আছেই।

এছাড়া, অনেক কর্মচারীর কাছ থেকে ধার বাবদ নিয়ে সেই টাকা আত্মসাত করেছেন। টাকা ফেরত চাইলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন তিনি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে তাদের বেতন পাস হলেও রিয়াজ আহমেদ সেই টাকা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন।

এই অভিযোগপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া হলে এ নিয়ে তদন্ত হয়। এর মাঝে রিয়াজ আহমেদ নিজেকে রক্ষায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। দুই মাসের বেতন তুলতে মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করার বলে কর্মচারীদের স্বাক্ষর নিয়েছেন। নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, এমন একটি আবেদন লিখে তার সঙ্গে কর্মচারীদের স্বাক্ষর করা কাগজ জুড়ে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন রিয়াজ। তবে বিষয়টি জানতে পেরে কর্মচারীরা আবারো একটি আবেদন দিয়ে মহাপরিচালককে অবহিত করেছেন যে, রিয়াজকে নির্দোষ দাবি করে তারা কোনো আবেদন দেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গোপন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দপ্তরের তদবিরবাজ হিসেবে চিহ্নিত আসাদুর রহমান আসাদ, রাজুসহ আরো অনেকে রিয়াজ তার সহযোগী, এক কথায় বলা যায় তার বডিগাড হিসেবে কাজ করে।

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার মহাপরিচালকের সাবেক গাড়ি চালক আব্দুল মালেকের আধিপত্য ব্যবহার করে তারা নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে ফোন করলে রিয়াজ আহমেদ বলেছেন, আমার কোথাও কোনো জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট নেই। আপনার কিছু জানার থাকলে অফিসে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন রিয়াজ।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এম. হাসান ইমামকে কল করলে তিনি কল কেটে দেয়ায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পরে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালককে (প্রশাসন) সংবাদের মূল বিষয়বস্তু হোয়াটস্অ্যাপে প্রেরণ করে মন্তব্য চাওয়া তারা কোনো প্রতিউত্তর দেননি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানেই

তারিখে ক্লিক করে সংবাদ পড়ুন

May 2021
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

আজ

  • মঙ্গলবার (রাত ১:২৮)
  • ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি
  • ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক-ইউটিউবে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

language change »